লাইভ ডেস্ক: চিকিৎসাশিক্ষার মৌলিক ৮টি বিষয়ের শিক্ষকদের শতভাগ প্রণোদনা ভাতা দেবে সরকার। মৌলিক বিষয়ে শিক্ষকের স্বল্পতা কমানোর উদ্দেশ্যে ইতোমধ্যে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের এ সংক্রান্ত প্রস্তাবনা অনুমোদন দিয়েছেন অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস।
আরো পড়ুন:
বেসরকারি শিক্ষক-কর্মচারীদের জন্য বিশাল দু:সংবাদ
বৃহস্পতিবার (২০ মার্চ) বিকেলে ডক্টর টিভিকে এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী অধ্যাপক মো. সায়েদুর রহমান। অনুমোদিত ভাতা কার্যকর করতে বছরে অতিরিক্ত ১০০ কোটি টাকার মতো ব্যয় করতে হবে সরকারকে।
মৌলিক আটটি বিষয়গুলো হলো- অ্যানাটমি, ফিজিওলজি, প্যাথলজি, ফার্মাকোলজি, বায়োকেমিস্ট্রি, মাইক্রোবায়োলজি, ফরেনসিক মেডিসিন ও কমিউনিটি মেডিসিন।
অর্থমন্ত্রণালয় থেকে দাপ্তরিক কাজ শেষ হলে সরকারি মেডিকেল কলেজের মৌলিক এসব বিষয়ের শিক্ষকেরা আগামীতে প্রতি মাসে বেতনের সমপরিমাণ ভাতা পাবেন।
সংশ্লিষ্টরা জানান, সাধারণতঃ বেসিক সাবজেক্টের (মৌলিক বিষয়) শিক্ষকদের প্রাইভেট প্র্যাকটিসের সুযোগ নেই। এ কারণে তরুণ চিকিৎসকেরা ভবিষ্যতের ক্যারিয়ার হিসেবে এসব বিষয়কে পছন্দের তালিকায় রাখছেন না। পর্যাপ্ত বিশেষজ্ঞ তৈরি না হওয়ায় এসব বিষয়ে শিক্ষক ঘাটতি তীব্র আকার ধারণ করেছে।
মৌলিক বিষয়ের বদলে তরুণ চিকিৎসকেরা ক্লিনিক্যাল বিষয়ে উচ্চতর ডিগ্রি অর্জনে অধিক মনোযোগী হচ্ছেন। এতে ব্যক্তিগতভাবে তারা লাভবান হলেও, এটা সার্বিক বিবেচনায় স্বাস্থ্য খাতের জন্য অশনিসংকেত বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।
স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, দেশে বর্তমানে সরকারি মেডিকেল কলেজ ৩৭টি। এসব কলেজে মৌলিক ৮টি বিষয়ে শিক্ষকের পদ আছে ৪ হাজার ৭৭৮টি।
এসব পদে শিক্ষক আছেন ১ হাজার ৩০৬ জন। পদ খালি ৩ হাজার ৪৭২টি। অর্থাৎ মৌলিক বিষয়ে ৭৩ শতাংশ পদ খালি রেখে সরকারি মেডিকেল কলেজে শিক্ষা চলছে। সরকারি ও বেসরকারি সূত্র বলছে, বেসরকারি মেডিকেল কলেজের পরিস্থিতি আরও খারাপ।
মন্ত্রণালয় সূত্র জানিয়েছে, ইতোপূর্বে বেশ কয়েকবার মৌলিক শিক্ষকদের প্রণোদনা দেওয়ার উদ্যোগ নেয় মন্ত্রণালয়। তখন প্রণোদনার পরিমাণ নিয়ে চিকিৎসকদের মধ্যে অসন্তুষ্টি ছিল। এখন প্রণোদনা ভাতা শতভাগ হওয়ায় সেই অসন্তুষ্টির কথা শোনা যাচ্ছে না।
শিক্ষকতা ও গবেষণায় আগ্রহীদের কথা ভেবেই শতভাগ প্রণোদনার পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী অধ্যাপক মো. সায়েদুর রহমান।
তিনি বলেন, চিকিৎসকদের মধ্যে মেধাবী অংশকে বেসিক বিষয়গুলোতে আগ্রহী করতেই এই উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। চিকিৎসাশিক্ষা ও সেবার ক্ষেত্রে এর একটি সুদূরপ্রসারী প্রভাব পড়বে। ভবিষ্যতের সরকার প্রণোদনার পরিধি আরও বাড়াবেন বলে প্রত্যাশা তাঁর।